গ্রিনল্যান্ডে হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প, উত্তেজনা বাড়ছে
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, যেটি দখল করার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প পূর্বে আলোচনায় এসেছিলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি
ট্রাম্পের এই ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে, আর্কটিক অঞ্চলকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "আমরা গ্রিনল্যান্ডে একটি বিশাল হাসপাতাল জাহাজ পাঠাচ্ছি, যেখানে অসুস্থ অনেক মানুষকে সেবা দেওয়া হবে যারা এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না।" তিনি আরও যোগ করেছেন, "এটা পথেই আছে!!!"
জাহাজের পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত পোস্টে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ইউএসএনএস মার্সি জাহাজকে তুষারাবৃত পর্বতের দিকে যাত্রা করতে দেখা যাচ্ছে। এই ৮৯৪ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি সাধারণত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করে। তবে, গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে এমন কোনো নির্দিষ্ট জাহাজের নাম বা বিবরণ ট্রাম্প দেননি।
ট্রাম্প তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে এই জাহাজ পাঠানো হবে গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রির সমন্বয়ে। ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প ল্যান্ড্রিকে আর্কটিক দ্বীপের জন্য তার দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই মাসে নিউ অরলিন্সের মার্ডি গ্রাস উদযাপনে ল্যান্ড্রি নিজের এবং গ্রিনল্যান্ডের দুই ব্যক্তির একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তারা একসাথে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা ধরে রয়েছেন।
ডেনমার্কের উদ্বেগ ও রাজকীয় সফর
ট্রাম্পের আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে, এই সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিক এক্স গ্রিনল্যান্ড সফর করেছেন। রাজা দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডে জনপ্রিয়তা উপভোগ করছেন। গত মাসে, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে এসে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের সাথে একটি "কাঠামোগত" চুক্তি করেছেন, যা মার্কিন প্রভাব বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আর্কটিক অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসপাতাল জাহাজ পাঠানোর এই ঘোষণা কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্দেশ্যে হতে পারে, কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থও কাজ করছে।
