বিজেপি নেতার মুসলিম নারীদের কম্বল না দেওয়ার ভিডিওতে তীব্র প্রতিক্রিয়া, কংগ্রেসের তীব্র নিন্দা
বিজেপি নেতার মুসলিম নারীদের কম্বল না দেওয়ার ভিডিওতে তীব্র প্রতিক্রিয়া

বিজেপি নেতার মুসলিম নারীদের কম্বল না দেওয়ার ভিডিওতে তীব্র প্রতিক্রিয়া, কংগ্রেসের তীব্র নিন্দা

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের টঙ্ক সোয়াই মাধোপুর এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সুখবীর সিং জনপুরিয়াকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি মুসলিম নারীদের কম্বল দিতে অস্বীকৃতি জানান। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব করা এই নেতাকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গালি দেন, তারা কম্বল পাওয়ার যোগ্য নন।

ভিডিওতে কী দেখা গেছে?

ভাইরাল ফুটেজে দেখা যায়, সুখবীর সিং একদল নারীর মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করছিলেন। এ সময় তিনি এক নারীর নাম জানতে চান। নাম থেকে তার ধর্মীয় পরিচয় বুঝতে পেরে তিনি সহযোগীদের ওই নারীকে কম্বল না দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়। এরপর তিনি বলেন, ‘যারা (প্রধানমন্ত্রী) মোদিকে গালি দেয়, তাদের কম্বল নেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তোমাদের খারাপ লাগলেও আমার কিছু করার নেই।’ একই সঙ্গে উপস্থিত মুসলিম নারীদের স্থান ত্যাগ করতে বলতেও শোনা যায় তাকে।

উপস্থিত ব্যক্তিদের আপত্তি ও নেতার প্রতিক্রিয়া

ভিডিওর পরবর্তী অংশে কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি মুসলিম নারীদের বঞ্চিত করার বিষয়ে সুখবীর সিংয়ের কাছে আপত্তি জানান। তারা অভিযোগ করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও ওই নারীদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জবাবে সাবেক এই সংসদ সদস্য বিতর্কে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে তিনি দাবি করেন, কম্বল বিতরণটি ছিল তার ব্যক্তিগত উদ্যোগ; এতে কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় হয়নি।

কংগ্রেস নেতাদের তীব্র নিন্দা

এ ঘটনায় টঙ্ক সোয়াই মাধোপুরের বর্তমান কংগ্রেসদলীয় সংসদ সদস্য হরিশ চন্দ্র মিনা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সুখবীর সিংয়ের এমন আচরণ দেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর। হরিশ চন্দ্র আরও বলেন, দরিদ্র ও অসহায় নারীদের নাম জিজ্ঞাসা করে ধর্মের ভিত্তিতে তাদের কম্বল থেকে বঞ্চিত করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অমানবিক। জনগণ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করেন যাতে তারা সবার সঙ্গে সমান আচরণ করেন—এ কথা উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শাখার প্রধান সুপ্রিয়া শ্রীনাথ ভিডিওটি শেয়ার করে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে ‘সংকীর্ণমনা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।