এস্তোনিয়ায় শীতে সমুদ্র জমে তৈরি হয়েছে বরফের রাস্তা, দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াত সহজ
উত্তর ইউরোপে তীব্র শীতের প্রভাবে সমুদ্রের পানি জমে শক্ত বরফে পরিণত হয়েছে, যা থেকে তৈরি হয়েছে একটি অনন্য রাস্তা। এই বরফের পথ দিয়ে মানুষ গাড়ি চালিয়ে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যাতায়াত করছেন, যা এস্তোনিয়ায় শীত মৌসুমের এখন একটি নিয়মিত দৃশ্য।
আইস রোডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ব্যবহার
পশ্চিম এস্তোনিয়ার সারেমা ও হিউমা দ্বীপকে সংযুক্ত করেছে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বরফের সড়ক, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইস রোড’। গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে পথটি চালু করা হয় এবং উদ্বোধনের দিনই সেখানে গাড়ি চলাচল শুরু হয়। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকায় সমুদ্রের পানি জমে এই রাস্তা তৈরি হয়েছে।
এতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বরফের সড়ক খুলে দেওয়া হয়। হিউমা দ্বীপে বাস করেন প্রায় ৯ হাজার মানুষ, যাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন—যেমন শিশুদের স্কুলে নেওয়া, কেনাকাটা বা অবসর কাটানো—অনেক ক্ষেত্রেই সারেমা দ্বীপে যেতে হয়, যেখানে জনসংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার। এমনকি মূল ভূখণ্ডে যেতেও হিউমা থেকে সারেমা হয়ে যেতে হয়, তাই প্রয়োজনের তাগিদেই আইস রোড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবনের অংশ
হিউমার মেয়র হারগো তাসুয়া বলেন, এটি শুধু প্রয়োজন নয়, স্থানীয় সংস্কৃতিরও অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উপকূলবর্তী মানুষ গ্রীষ্মে সমুদ্রে সাঁতার ও নৌকা ব্যবহার করেন, আর শীতে বরফে জমে যাওয়া সমুদ্রের ওপর চলাচল যেন তাদের জীবনের স্বাভাবিক অভ্যাস। এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি স্থানীয়দের জন্য একটি পরিচিত ও প্রয়োজনীয় উপায় হয়ে উঠেছে।
আইস রোড ব্যবহারের বিধিনিষেধ
আইস রোড ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ আড়াই টন ওজনের গাড়ি চলতে পারবে, এবং গতি রাখতে হবে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের নিচে অথবা ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের মধ্যে। নির্ধারিত সীমার বাইরে গতি বাড়ালে কম্পনের কারণে বরফের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
এই ব্যবস্থা স্থানীয়দের জন্য যাতায়াত সহজ করলেও, এটি শীতের তীব্রতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকেও তুলে ধরে। এস্তোনিয়ার মতো উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলোতে শীতকালীন অভিযোজন কৌশল হিসেবে এই ধরনের উদ্ভাবনী সমাধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
