ঘোড়াঘাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচালকের সহকারী নিহত, চালক আহত
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী ট্রাকের চালকের সহকারী নিহত হয়েছেন। একই ট্রাকের চালক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে গত রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহরের ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। পথে ঘোড়াঘাট ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে ট্রাকটির চাকা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে এটি বিকল হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। মেরামতের জন্য ট্রাকটিকে সাময়িকভাবে সেখানে রাখা হয়।
এ সময় নীলফামারী থেকে বগুড়াগামী গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী একটি দ্রুতগামী ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিকল ট্রাকটির পেছনে প্রবল ধাক্কা দেয়। ধাক্কার প্রচণ্ডতায় গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী ট্রাকের সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকের ভেতরে চালক ও চালকের সহকারী আটকা পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের দল বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ট্রাকের কেবিন কেটে সেখান থেকে চালকের সহকারী আপন চন্দ্র দাসের মরদেহ উদ্ধার করে। একই সাথে আহত চালক বিকাশ চন্দ্র দাসকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। আহত চালককে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার জন্য ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
নিহত ব্যক্তি আপন চন্দ্র দাস (২৬) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কেয়াপাড়া গ্রামের অকিন চন্দ দাসের ছেলে। অন্যদিকে আহত চালক বিকাশ চন্দ্র দাস (৩০) নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারি গ্রামের বিনোদ চন্দ্র দাসের ছেলে। মজার বিষয় হলো, তাঁরা দুজনই সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই, যা এই দুর্ঘটনাকে আরও করুণ করে তুলেছে।
পুলিশি তদন্ত ও ব্যবস্থা
ঘোড়াঘাট থানার উপপরিদর্শক সাব্বির আলম ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "রাতে ঘোড়াঘাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকচালকের এক সহকারীর মৃত্যু ও চালকের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত দুটি ট্রাক পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।"
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনায় জড়িত দুটি ট্রাকই এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।
এই দুর্ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা ও গতি নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি, যা অনেক সময় উপেক্ষিত হয়।



