যমুনার ভাঙনে বগুর সোনাতলায় পুর্ব সুজাইতপুর গ্রামের অস্তিত্ব সংকট
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় যমুনা নদীর ভাঙন মারাত্মক রূপ নিয়েছে। পাকুলিয়া ইউনিয়নের পুর্ব সুজাইতপুর গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ত্বরিত ভাঙনরোধী ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা তাদের আবাসস্থল হারাতে পারেন।
শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং একটি মাদ্রাসাও ভাঙনের সরাসরি হুমকির সম্মুখীন। স্থানীয়রা এখন নিত্যদিনের উদ্বেগ নিয়ে জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার গ্রামবাসী নদীর তীরে মানববন্ধন করে ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।
পুর্ব সুজাইতপুর গ্রামটি সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। একসময় গ্রামটি যমুনা নদী থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ছিল, কিন্তু ক্রমাগত ভাঙনের ফলে নদী এখন আবাসিক এলাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, পানির স্তর বাড়লে ধ্বংসের গতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
স্থানীয়দের আতঙ্ক ও আবেদন
গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, একটি বাজার, একটি দাতব্য চিকিৎসালয় এবং একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুলি বেওয়া, রোকেয়া বেগম, আলেদা বেওয়া, জোবেদা বেগম, আশাদুল হক প্রামাণিক, আব্দুল জব্বার মন্ডল, মোজাফফর হোসেন, রফিকুল ইসলাম, পাকুলিয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সম্পাদক মানিক কাজী এবং সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম শাহিনসহ অনেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, "নদী ভাঙনের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম আসে না। আমাদের বাড়িঘর যেকোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমরা শিশুদের নিয়ে কোথায় যাব?"
তারা যোগ করেছেন, একসময় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে থাকা নদী এখন তাদের দোরগোড়ায় চলে এসেছে। পানির স্তর বাড়লে গ্রামটি তার শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। পুর্ব সুজাইতপুরকে ভাঙন থেকে বাঁচাতে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।
বিদ্যালয়ের করুণ দশা ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
পুর্ব সুজাইতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। তিনি সতর্ক করে বলেন, "কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিদ্যালয়টি শীঘ্রই যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।"
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আশাদুল হক জানান, ভাঙন রোধের প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে কর্মী মাঠে পাঠানো হয়েছে।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, নদী তীরের ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষকে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



