রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি বুধবার (২৫ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
সৌহার্দ পরিবহণের একটি বাস কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালে ১০-১২ জন যাত্রী বাস থেকে নেমে যান। অবশিষ্ট যাত্রীদের নিয়ে বাসটি ঢালু অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীর গভীর জলে পড়ে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার তৎপরতা ও হতাহতের তথ্য
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ উদ্ধার কাজ শুরু করে। তিনজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত দুই নারী হলেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার রেহেনা বেগম (৬০) এবং মর্জিনা বেগম (৫৫)। মর্জিনা বেগমের বিস্তারিত পরিচয় এখনও স্পষ্ট নয়।
চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানান, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তার অবস্থা পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
যাত্রীদের অবস্থা
সৌহার্দ পরিবহণের দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মনির হোসেনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাসটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৫২ জন যাত্রী ছিলেন। অধিকাংশ যাত্রী পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার সময় বাসে কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি, তবে উদ্ধারকর্মীরা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা দপ্তরগুলো সতর্কতা জারি করেছে। পদ্মা নদীতে ফেরি চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



