রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২, নিখোঁজ অন্তত ৩৫
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে একটি বাস পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন আরও একজন। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে বাকি অন্তত ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
মারা যাওয়া দুজন হলেন রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। রেহেনা বেগমের বাড়ি রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকায়, অন্যদিকে মর্জিনা বেগমের বিস্তারিত পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসাধীন আছেন নুসরাত (২৯) নামের এক নারী, যিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কারও পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসন ও উদ্ধারকাজের বর্ণনা
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘বাস দুর্ঘটনায় তিন জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং অন্যজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অন্তত ৩৫ জন নিখোঁজ আছেন বলে জানতে পেরেছি আমরা। তাদের উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে, তলিয়ে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। বুধবার রাতে তাদের সদর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। তবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে বলেও ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনার সময় ও কারণ
স্থানীয় ও বেঁচে যাওয়া বাসের যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ওই বাস থেকে পাঁচ থেকে সাত যাত্রী শুরুতেই বের হতে পেরেছেন, কিন্তু বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মতে, অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ আছেন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে সৌহার্দ পরিবহনের বাসটি পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার সময় সোয়া ৫টায় বাসটি নদীতে পড়ে গেলেও, দৌলতদিয়া ২ নম্বর ফেরিঘাটে থাকা উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা রাত ৮টা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ শুরু করেনি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা বড় হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘বিকাল ৫টার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’



