রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া বাসটি শনাক্ত করেছে ফায়ার সার্ভিস
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে তলিয়ে যাওয়া বাস শনাক্ত, উদ্ধার প্রচেষ্টা চলছে

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে তলিয়ে যাওয়া বাস শনাক্ত, উদ্ধার প্রচেষ্টা চলছে

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া একটি বাস সফলভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ে, যা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর আনুমানিক ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল।

ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য ও উদ্ধার প্রক্রিয়া

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানির নিচে বাসটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ এর উদ্ধারকারী যান ‘হামজা’র সহযোগিতায় বাসটি উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। উদ্ধার কাজে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি ইউনিট এবং আরিচা স্টেশনের একটি ডুবুরি ইউনিট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া, ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, যা উদ্ধার প্রচেষ্টাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিকেল পাঁচটার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এই সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় বাসটি অপর ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোয়া পাঁচটার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির এই ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় বাসের যাত্রীদের অবস্থা এখনও অস্পষ্ট, তবে উদ্ধারকারী দলগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযানের গুরুত্ব ও চলমান প্রচেষ্টা

ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই উদ্ধার অভিযানকে এগিয়ে নিচ্ছে। নদীর গভীরতা ও জলস্রোতের কারণে কাজটি চ্যালেঞ্জিং হলেও, ডুবুরি ইউনিটগুলি প্রশিক্ষিত পদ্ধতিতে এগোচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রকার জটিলতা এড়ানো যায়।

এই ঘটনা ফেরি ঘাটগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে বাসটি উত্তোলন ও সম্ভাব্য আহতদের উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।