গোয়ালন্দে পদ্মায় বাস দুর্ঘটনা: ৪০ যাত্রী আটকা, উদ্ধার তৎপরতা চলছে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে, যাতে ৪০ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী সৌহার্দ পরিবহণের বাসটি দৌলতদিয়ার ৩নং ফেরিঘাটে বিকেল ৫টার দিকে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়, এবং বাসটি অপর ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। সোয়া ৫টার দিকে, ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি ঘাটে এসে পন্টুনে সজোরে আঘাত করে, যার ধাক্কায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
যাত্রীদের অবস্থা
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, বাসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, “এর মধ্যে কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে বের হতে পারলেও, বেশিরভাগ যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের বের করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল।” স্থানীয়রা দ্রুত সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন, এবং জরুরি সেবাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।
উদ্ধার তৎপরতা
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের কর্মীরা নদীতে ডুবুরি পাঠিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে সহায়তা করছেন। তবে, পানির স্রোত ও অন্ধকারের কারণে কাজে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছেন যে, সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে, যদি না দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার করা যায়।
প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে এবং অন্যান্য ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে, যারা দুর্ঘটনার কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে কাজ করবে। পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।



