ইসলামপুর থানার নির্মাণাধীন ভবনে ছাদ ধস: সাত শ্রমিক আহত, হাসপাতালে ভর্তি
ইসলামপুর থানার ভবনে ছাদ ধসে সাত শ্রমিক আহত

ইসলামপুর থানার নির্মাণাধীন ভবনে ছাদ ধস: সাত শ্রমিক আহত, হাসপাতালে ভর্তি

জামালপুরের ইসলামপুর থানার একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ ধসে পড়ে সাত শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে ইসলামপুর থানা চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শ্রমিকদের মধ্যে চারজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি তিনজন ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আহত শ্রমিকদের পরিচয় ও চিকিৎসা

আহত শ্রমিকরা হলেন মো. আমিনুল (৪২), শফিকুর রহমান (৪৮), মো. সাইফুল (৪৩), বিপ্লব মিয়া (৪৫), লাল চাঁন (৩৮), বাবুল মিয়া (৩৯) ও মোহাম্মদ মনির (৪৪)। তাঁরা সবাই মেলান্দহ উপজেলার বাসিন্দা। আমিনুল, শফিকুর, সাইফুল ও বিপ্লবকে গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, লাল চাঁন, বাবুল মিয়া ও মোহাম্মদ মনির ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুর থানার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। আজ ভবনের প্রথম তলার মূল ছাদের সামনে গাড়ি রাখার স্থানে ছাদের ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। হঠাৎ একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ছাদটি ধসে পড়লে সাতজন শ্রমিক চাপা পড়েন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধসে পড়া ছাদের নিচ থেকে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখান থেকে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্ত

ইসলামপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম বলেন, "ভবনটির একটি ছাদের পুরো অংশই ধসে পড়েছিল। উদ্ধার অভিযান শেষে সবাইকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্তের পর বলা যাবে।" ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাইয়ুম গাজী জানান, "এটি থানার মূল ভবনের ছাদ নয়। ভবনের সামনে যে অংশে গাড়ি থামে, আজ সেই অংশের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। ঢালাই করার সময় ওই অংশটি ধসে পড়ে সাতজন নির্মাণশ্রমিক আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"

এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ছড়িয়েছে, এবং কর্তৃপক্ষ নির্মাণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আহত শ্রমিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে, এবং ঘটনার কারণ তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।