ফেনীর দাগনভূঞায় বাজারে ভয়াবহ আগুন, ১১ দোকান পুড়ে ছাই
ফেনীতে বাজারে আগুনে ১১ দোকান পুড়ে গেছে

ফেনীর দাগনভূঞায় বাজারে ভয়াবহ আগুন, ১১টি দোকান পুড়ে ছাই

ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় একটি বাজারে ভয়াবহ আগুনে ১১টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশমুন্সি বাজারে এ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

আগুনের উৎস ও দ্রুত বিস্তার

জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত হয় বাজারের টু-স্টার হোটেলের গ্যাসের চুলা থেকে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাজারে দাহ্য পণ্য ও বিপুল মালামাল থাকায় তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দমকল বাহিনীকে খবর দেন, যারপরনাই ফেনী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং সেনবাগ উপজেলা থেকে একটি ইউনিটসহ মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

দমকল বাহিনী ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টা

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, যেখানে স্থানীয়রাও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুদি দোকান, ইলেকট্রনিক্সের দোকান এবং গুদামঘর রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নগদ অর্থ, আসবাবপত্র এবং বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে গেছে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ীদের করুন অবস্থা ও সরকারি সহযোগিতা কামনা

বাজারের মোল্লা স্টোরের মালিক কামাল উদ্দিন বলেন, তার প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। রমজান মাসকে সামনে রেখে এমন ক্ষতিতে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং সরকারের কাছ থেকে জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই রকম দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন, যা এলাকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত ও স্থানীয় দাবি

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ হারুন পাশা জানান, আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট নাকি গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লাগল—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে দাগনভূঞায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, যদি স্থানীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকত, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হতে পারত।

এই ঘটনা ফেনী জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।