চট্টগ্রামে ৬ ঘণ্টায় ৬৪ মিমি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও ভোগান্তি
চট্টগ্রামে ৬ ঘণ্টায় ৬৪ মিমি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা

চট্টগ্রামে ছয় ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

বৃষ্টির ধারা ও ভোগান্তি

এ দিন দুপুর ১২টা থেকে নগরীতে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণও বাড়তে থাকে। এ সময় জুমার নামাজে যাওয়া মুসল্লিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। নামাজ শেষে অনেককেই বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় ফিরতে দেখা গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চট্টগ্রামে বৃষ্টি হচ্ছিল। এ কারণে নগরীর নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।

মেয়রের পরিদর্শন

এদিকে টানা বৃষ্টির মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, খাল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জলাবদ্ধতার চিত্র

টানা বৃষ্টির কারণে নগরীর কাতালগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় হাঁটু পানি উঠে যায়। সড়কের কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পর্যন্ত পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালগামী রোগী, স্বজন ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষও সমস্যায় পড়েন। অনেক যানবাহন পানিতে আটকে পড়ে। এতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট।

স্থানীয়রা জানান, কাতালগঞ্জ এলাকার নিচু অংশগুলোতে বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। শুক্রবারের বৃষ্টিতে এলাকার অলিগলি ও প্রধান সড়কগুলোতেও পানি জমে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবহাওয়া অফিসের তথ্য

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, শুক্রবার নগরীতে বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে। আমবাগান আবহাওয়া অফিস এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আমবাগান আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাঈল ভুঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটিকে ভারি বৃষ্টিপাত বলা যায়। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় এবং বর্ষার প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রাতে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সাগর কিছুটা উত্তাল থাকায় উপকূলীয় এলাকায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।