ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে তেলের দামে ধস, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে স্বস্তির ঢেউ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধস নেমেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারগুলোতে বইছে স্বস্তির হাওয়া, সূচকগুলোর ব্যাপক উত্থান ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
তেলের বাজারে ধ্বস, ব্রেন্ট ক্রুডের দামে ব্যাপক পতন
যুদ্ধবিরতির খবর আসার পরপরই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলারের বেশি কমেছে। বর্তমানে এটি ৯৩ দশমিক ৮২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এশীয় বাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে তেলের দাম সর্বনিম্ন ৯১ দশমিক ৭ ডলারে পৌঁছেছিল। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার।
বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান
যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসায় বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে।
- জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
- দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বেড়েছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
- অস্ট্রেলিয়ার বাজার বেড়েছে ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
- হংকংয়ের হাং সেং ৩ শতাংশ এবং চীনের শেনচেন কম্পোজিট সূচক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
ইউরোপের বাজারগুলোতেও ব্যাপক উত্থান দেখা গেছে। বুধবার সকালে ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। জার্মানির ড্যাক্স ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত: স্বস্তি ও অনিশ্চয়তা
হারগ্রেভস ল্যান্সডাউনের সিনিয়র ইক্যুইটি অ্যানালিস্ট ম্যাট ব্রিটজম্যান বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ দেখিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ঝুঁকি কমিয়েছে।"
তবে ড্যানিশ শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক এখনই পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে তারা জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং আপাতত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে।
স্যাক্সো ব্যাংকের মুখ্য বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা এবং ডয়চে ব্যাংকের জিম রিড মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইসলামাবাদ আলোচনা কতটা সফল হয় এবং হরমুজ প্রণালি নির্ভরযোগ্যভাবে খোলা থাকে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।
এই যুদ্ধবিরতি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তেলের বাজার ও শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।



