যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় স্বর্ণের দাম শীর্ষে, মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, স্বর্ণের দাম প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
দাম বৃদ্ধির কারণ ও বাজার পরিস্থিতি
জ্বালানি-নির্ভর মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। স্পট গোল্ডের দাম ২.৩% বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৮১২.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ট্রেডিং সেশনের শুরুর দিকে এটি ৩% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ৩.৪% বেড়ে ৪,৮৪১.৬০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য হামলা বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে প্রাপ্ত ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঝুঁকি থেকে যাবে।
পাকিস্তান কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে দুই সপ্তাহের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, তারা পাকিস্তানের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানোর পর ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে, যদিও তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই আলোচনা যুদ্ধের সমাপ্তি নির্দেশ করে না।
বিশ্লেষকদের মতামত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কারণে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে, যা দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইরান শেষ পর্যন্ত শর্ত মানবে কি না, তা এখনও দেখার বিষয়। স্বর্ণের ক্ষেত্রে ৪,৯৩০ ডলারের ২০০ দিনের মুভিং এভারেজ এবং এরপর ৫,০০০ ডলার গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে। একইভাবে, রূপার জন্য ৮০-৮১ ডলার স্তরটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যান্য ধাতুর দাম ও অর্থনৈতিক প্রভাব
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম ৮% এর বেশি কমেছিল, কিন্তু যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তা পুনরুদ্ধার হয়েছে। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে, স্পট সিলভারের দাম ৪.৯% বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৪৮ ডলার, প্লাটিনাম ৩.২% বেড়ে ২,০২০.৫৭ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ৪.১% বেড়ে ১,৫২৯.৩৫ ডলারে পৌঁছেছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলবে। সাধারণত, স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হারের সময় এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এটি কোনো সুদ প্রদান করে না।



