ইরানে যুদ্ধের ধাক্কায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারালেন, অর্ধেক শ্রমশক্তি ঝুঁকিতে
চলমান যুদ্ধের তীব্র প্রভাবে ইরানে ২০ লাখের বেশি মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন দেশটির উপ শ্রমমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মদী। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর অবস্থায় থাকা ইরানের অর্থনীতি এই যুদ্ধের ধাক্কায় এখন গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্যগুলো সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান হ্রাস
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কাতেই অন্তত ১০ লাখ মানুষ সরাসরি তাদের কাজ হারিয়েছেন। উপ শ্রমমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মদী স্পষ্ট করে বলেছেন, সব মিলিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বেকারত্বের কবলে পড়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের ব্যাপক ক্ষতি
- পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের মারাত্মক বিপর্যয়
- ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানার ধ্বংসপ্রাপ্তি
একই সময়ে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ডিজিটাল অর্থনীতিও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যা কর্মসংস্থান সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
অর্ধেক শ্রমশক্তি এখন চরম ঝুঁকির মুখে
ইরানের সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ একটি ভয়াবহ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক—অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যা ইরানের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
পুনর্গঠন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ঘোষণা
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ইরান সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন গোলাম হোসেন মোহাম্মদী। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার নতুন প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ কর্মসূচি শুরু করেছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এ বছর আমাদের লক্ষ্য শুধু সংখ্যা নয়, বরং গুণগত মানের দিকে। পুনর্গঠন কাজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে ইরান সরকার আশা করছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে এবং বিপুল সংখ্যক বেকার মানুষকে পুনরায় কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা ও অবকাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরানের জন্য এখনও একটি কঠিন পথ বাকি রয়েছে।



