অর্থ পাচার বিতর্কে পদত্যাগ নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং-এর
অর্থ পাচার ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং। বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে এই পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেসবুকে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা
ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে সুদান গুরুং তার পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, 'আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বুধবার থেকে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তটি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থ পাচার অভিযোগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক
সম্প্রতি নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যবসায়ী দীপক ভাট্টার সঙ্গে গুরুংয়ের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব রয়েছে। এছাড়া, তার নেতৃত্বাধীন বেসরকারি সংগঠন হামি নেপাল প্রশ্নবিদ্ধ উৎস থেকে অর্থ পেয়েছে, এমন অভিযোগও প্রকাশিত হয়। এই খবর প্রকাশের পর থেকেই তিনি ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ ও রাজনৈতিক পটভূমি
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের প্রেস সচিব দীপা দাহাল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নতুন মন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। সুদান গুরুং এর আগে বেসরকারি সংস্থা হামি নেপাল-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জেন-জি-এর নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন তিনি।
৫ মার্চের পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিতে যোগ দেন এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার এই দ্রুত পদোন্নতি ও পদত্যাগ নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।



