ঝামেলামুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ই-হেলথ কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত
জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছেন, যা বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবাকে ডিজিটালাইজড করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও রূপরেখা প্রদান
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ই-হেলথ কার্ডের রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব মেডিক্যাল রেকর্ড, জীনগত তথ্য এবং পূর্বের চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসার মান উন্নত করবে।
পাইলট প্রজেক্ট ও সারাদেশে বিতরণ পরিকল্পনা
প্রাথমিকভাবে একটি জেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ই-হেলথ কার্ড চালু হচ্ছে এবং জুন মাসের পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিতরণ শুরু হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে জাতীয় ই-হেলথ কার্ড চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কার্ডের বৈশিষ্ট্য ও সুবিধাসমূহ
ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে রোগীদের যাবতীয় তথ্য একটি ইউনিক নম্বরে সংরক্ষিত থাকবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে বিনামূল্যে এই কার্ড পাওয়া যাবে। কার্ডটি রোগীর গোপনীয়তা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হচ্ছে।
- ক্যাশলেস চিকিৎসা: কার্ডের মাধ্যমে নগদবিহীন চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাবে।
- সমন্বিত রেকর্ড: চিকিৎসকরা রোগীর পূর্বের সব রেকর্ড তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন।
- ৫২ ধরনের সেবা: এনআইডি কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে ৫২ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে।
রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি ও ব্যবহার
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে হাসপাতালে, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের মাধ্যমে বা অনলাইনে এই কার্ডের জন্য রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সংযুক্ত করবে।
মন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, আগামী জুনের মধ্যে হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, "এই কার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও আরও শক্তিশালী করা হবে।"
পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসলাম আলি বলেছেন, "বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই কার্ড প্রচলিত আছে। এর মাধ্যমে একজন রোগী ঝামেলামুক্তভাবে চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।"
লক্ষ্য ও প্রত্যাশা
ই-হেলথ কার্ডের মূল লক্ষ্য হলো সুনির্দিষ্টভাবে রোগ নির্ণয় করা, চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি করা, নাগরিকদের অর্থ ও সময় সাশ্রয় করা এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



