ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, উন্নয়নমূলক সহায়তা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর জোর
বৈঠকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ভারতকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কোনো কাজে মিয়ানমারের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি জানান, নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে দুই পক্ষই এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, কোনো দেশেরই সার্বভৌম ভূখণ্ড যেন একে অপরের নিরাপত্তা স্বার্থের পরিপন্থী বা ক্ষতিকর কোনো কার্যকলাপে ব্যবহৃত না হতে পারে।
ভারতের অবিচল অংশীদার মিয়ানমার
একটি যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মোদি মিয়ানমারকে ভারতের একটি অবিচল ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া, মিয়ানমারের চলমান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি স্থায়ী শান্তি, অন্তর্ভুক্তি এবং সমস্ত অংশীদারদের আলোচনার টেবিলে আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্ব
দেশটির সঙ্গে ভারতের এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে সমর্থন করে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিস্রি বলেন, 'এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর কোনো মন্তব্য বা মূল্যায়ন নয়। মিয়ানমার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে অন্য শক্তির জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।'
অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এই লক্ষ্যে কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট এবং ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ে-র কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য উভয় দেশই একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



