বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের হামলার শিকার হয়ে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা (৭) এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোসল করতে দিঘিতে নামার পর সেখানে থাকা একটি কুমির শিশুটিকে কামড়ে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে নেমে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মহিদুল ইসলাম।
বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করে। রাতভর অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে দিঘি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতিক্রিয়া
কুমিরের হামলায় শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।



