টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঝোপ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধার, হাসপাতালে ভর্তি
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় থেকে একটি জীবিত নবজাতক শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে এই ঘটনাটি ঘটে, যা স্থানীয় সম্প্রদায়কে নাড়া দিয়েছে এবং শিশুটির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধারের বিস্তারিত বিবরণ
সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বারোমন্ডলের চালা এলাকায়, ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর ছালাম (৬৫) রাস্তার পাশ থেকে একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি ঝোপের ভেতরে একটি নবজাতক শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। আবদুর ছালাম দ্রুত স্থানীয় অন্যান্য বাসিন্দাদের সহযোগিতা নেন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শিশুটিকে একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। রাতের বেলা খোলা পরিবেশে পড়ে থাকার কারণে শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। উদ্ধারের পরপরই শিশুটিকে সখীপুর মা ও শিশু ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা ও পরবর্তী ব্যবস্থা
চিকিৎসক শামসুল আলম জানান, শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিশুটির তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল, তাই আমরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আশা করি, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।’
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুহুল আমিনের মতে, আপাতত শিশুটি এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতি ইব্রাহিম ও নার্গিসের হেফাজতে রয়েছে। এই দম্পতি শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা এই দুঃখজনক ঘটনায় কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে।
সামাজিক সেবা কর্মকর্তার বক্তব্য
সখীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তার পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। শিশুটির চিকিৎসা চলছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই মন্তব্য শিশুটির ভবিষ্যত নিয়ে আশ্বস্ত করেছে, যদিও এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ বাকি রয়েছে।
এই ঘটনা শিশু নির্যাতন ও পরিত্যাগের মতো সামাজিক সমস্যাগুলোকে আবারো সামনে নিয়ে এসেছে, যা সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং সহযোগিতা শিশুটির জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা মানবিকতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



