শিশুর জ্বরে পানিপট্টি: সঠিক নিয়ম না মানলে ক্ষতি হতে পারে
শিশুর জ্বরে পানিপট্টি: সঠিক নিয়ম না মানলে ক্ষতি

শিশুর জ্বরে পানিপট্টি: সঠিক নিয়ম না মানলে ক্ষতি হতে পারে

ঠান্ডা-গরমের আবহাওয়ার পরিবর্তনে শিশুদের মধ্যে ঘন ঘন সর্দিকাশি ও জ্বর দেখা দিচ্ছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের প্রকোপও বাড়ছে, ফলে ঘরে ঘরে ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে খুদে শিশুরা। জ্বরের সঙ্গে শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও অনেকের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। শিশুর জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, যদি জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। শুরু থেকেই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ। অনেক অভিভাবক নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে শুরু করেন, যা হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া, জ্বর হলে স্পঞ্জিং বা পানিপট্টি দেওয়া উচিত কিনা, সে বিষয়েও অভিভাবকদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে।

চিকিৎসকদের মতামত: স্পঞ্জিংয়ের সঠিক পদ্ধতি

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শিশুদের জ্বর হলে স্পঞ্জিং বা পানিপট্টি দেওয়া যেতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা আবশ্যক। শিশুর জ্বরের সময় পানি পট্টি বা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া হলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমানো যায়। তবে এ ক্ষেত্রে সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত গরম বা বরফ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা একেবারেই উচিত নয়, কারণ এতে শিশু শক খেতে পারে বা শরীর আরও বেশি কাঁপতে শুরু করতে পারে।

শিশুকে কীভাবে স্পঞ্জিং করাবেন: ধাপে ধাপে নির্দেশনা

শিশুকে স্পঞ্জিং করার সময় নিম্নলিখিত নিয়মগুলো অনুসরণ করা উচিত:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • প্রথমত: স্পঞ্জিং করার সময় কখনই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন না। সবসময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা পানি বা সামান্য গরম পানি ব্যবহার করুন।
  • দ্বিতীয়ত: শুধু মাথায় পানিপট্টি দিলে তেমন উপকার হয় না। জ্বর হলে একটি ভেজা গামছা দিয়ে শিশুর মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভালো করে মুছিয়ে দিতে হবে।
  • তৃতীয়ত: জ্বরের শুরুতেই স্পঞ্জিং করানো উচিত নয়। জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রথমে শিশুকে প্যারাসিটামল খাওয়াতে হবে। তারপরও জ্বর না কমলে স্পঞ্জিং করানো যেতে পারে।

অতিরিক্ত সতর্কতা: যা অবশ্যই মনে রাখবেন

শিশুর স্পঞ্জিং করার সময় কিছু বাড়তি সতর্কতা পালন করা জরুরি:

  1. স্পঞ্জিং করার সময় ফ্যান বা এসি বন্ধ রাখুন, যাতে শিশুর শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা না হয়।
  2. কখনই ১০ মিনিটের বেশি সময় ধরে স্পঞ্জিং করানো ঠিক নয়। দীর্ঘ সময় ধরে এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে।
  3. যদি দেখেন স্পঞ্জিংয়ের সময় শিশু থরথর করে কাঁপছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে স্পঞ্জিং বা পানিপট্টি বন্ধ করে দিন। এটি একটি বিপদ সংকেত হতে পারে।

সর্বোপরি, শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জ্বরের সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতিতে পানিপট্টি দেওয়া লাভের চেয়ে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাই সচেতনতা বজায় রাখুন।