রমজানে ঘুমের ব্যাঘাত: স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধি ও মানসিক প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
রমজানে ঘুমের ব্যাঘাত: বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

রমজানে ঘুমের অভ্যাস পরিবর্তন: স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

রমজান মাসে ইফতারের পর নামাজ আদায়, পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সামাজিক আড্ডা এবং অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় অনেকেই দেরি করে ঘুমাতে যান। আবার সেহরির জন্য ভোর সকালেই উঠতে হয়, যা একটানা ঘুমের সময় কমিয়ে আনে। এই অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আংশিক স্লিপ ডিপ্রাইভেশন হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শরীরে স্ট্রেস হরমোনের বৃদ্ধি ও ঘুমের মান হ্রাস

ডা. আমির ফিরোজাই, একজন জেনারেল প্র্যাকটিশনার ও চাইনিজ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ব্যাখ্যা করেন যে রাত জাগা এবং ভোরে ওঠার এই চক্র শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি গভীর ঘুমের গুণমানকে হ্রাস করে এবং বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বিরক্তি, মানসিক ক্লান্তি এবং অস্থিরতা এই সময়ে সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, যা দৈনন্দিন জীবনযাপনকে ব্যাহত করতে পারে।

ঘুমের ঘাটতির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব

অন্যদিকে, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. সন্তোস আব্রাহাম সতর্ক করে দেন যে ঘুমের অভাব শুধুমাত্র শারীরিক ক্লান্তির কারণই নয়, বরং এটি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মুডের উপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তিনি মনে করিয়ে দেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহটি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, কারণ শরীর নতুন ঘুমের প্যাটার্নের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। এই সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রমজানে ঘুমের স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে রমজান মাসে ঘুমের ব্যাঘাত কমাতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম বা ধ্যান করা এবং সেহরির আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, দিনের বেলা ছোট ছোট ঘুম বা ন্যাপ নেওয়া শরীরকে সতর্ক রাখতে সাহায্য করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ঘুমের মান উন্নত করতে পারে, যা রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক হবে।