হামের প্রকোপে উদ্বেগ: ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৭ জন আক্রান্ত, ৪ মৃত্যু
দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনকভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮৭ জন এবং একই সময়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিশ্চিত ও সন্দেহজনক হামের পরিসংখ্যান
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি, যা ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এতে চার জন প্রাণ হারিয়েছেন।
১৫ মার্চ থেকে চলমান পরিস্থিতি
গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা মোট ৮২৬ জন এবং সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছয় হাজার ৪৭৬ জন। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৫৪ জন। এটি কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও, সংক্রমণের হার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
২০ জেলার ৩০ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা
হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর
- পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা
- চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর
- কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা
- গাজীপুর সদর
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা
- নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া
- ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা
- রাজশাহীর গোদাগাড়ী
- বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা
- নওগাঁর পোরশা
এই এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জনগণকে সচেতনতা বাড়ানো এবং টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
হাম একটি সংক্রামক রোগ যা প্রধানত শিশুদের প্রভাবিত করে, তবে বয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। লক্ষণগুলোর মধ্যে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লাল দাগ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে হামের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসকারীদের জন্য।



