হামের ঝুঁকিতে ২০ জেলার ৩০ এলাকা: বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে
হামের ঝুঁকিতে ২০ জেলার ৩০ এলাকা: টিকাদান শুরু

হামের প্রকোপ বৃদ্ধি: ২০ জেলার ৩০ এলাকাকে হটস্পট ঘোষণা

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০টি জেলার ৩০টি এলাকাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা

হামের হটস্পট হিসেবে ঘোষিত এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • বরগুনা জেলা পৌরসভা ও সদর
  • পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া উপজেলা
  • চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর
  • কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও রামু উপজেলা
  • গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলা
  • নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা
  • রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ উপজেলা, নওগাঁর পোরশা
  • যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর উপজেলা
  • মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা

টিকাদান কর্মসূচির বিস্তারিত

শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রথম ধাপে এই ৩০টি হটস্পট এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, আগামী ২১ মে ২০২৬, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই টিকাদান কর্মসূচি হামের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা ও পরামর্শ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

  1. যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
  2. হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশা, জনসচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে এবং হামের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।