মাদকাসক্ত ছেলের দায়ের কোপে বাবা নিহত, চকরিয়ায় উত্তেজনা
মাদকাসক্ত ছেলের দায়ের কোপে বাবা নিহত চকরিয়ায়

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মা-বাবার অভিযোগের জেরে এক মাস কারাভোগের পর বাড়ি ফিরে বাবাকেই কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরকুম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম খলিলুর রহমান (৬০)। তিনি মৌলভীরকুম এলাকার বাসিন্দা এবং এলাকায় একটি ছোট দোকানে চা-পান বিক্রি করতেন।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মিনারুল ইসলাম তাঁর বাবা খলিলুর রহমানের পথ রোধ করেন। একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে খলিলুর রহমানের বাঁ হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বাহুর একটি অংশ প্রায় আলাদা হয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আটক ও পুলিশি ব্যবস্থা

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ছেলে মিনারুল ইসলামকে (৩০) আটক করে মারধর করেন। পরে তাঁকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে চকরিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিনারুলকে থানায় নিয়ে যায়। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মিনারুল ইসলাম মাদকাসক্ত। তাঁর কর্মকাণ্ডে পরিবার অতিষ্ঠ ছিল। এ কারণে মা-বাবা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই মিনারুল তাঁর বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ব ইতিহাস

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মিনারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তাঁর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দেড় মাস আগে মা-বাবা চকরিয়া উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মিনারুলকে এক মাসের কারাদণ্ড দেন। ১০ থেকে ১১ দিন আগে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর পর থেকেই বাবার প্রতি তাঁর ক্ষোভ ছিল বলে জানান স্থানীয় লোকজন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলেও বাবার সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।

পুলিশের বক্তব্য

ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন আরও বলেন, মিনারুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।