বগুড়ার কাহালুতে আগুনে পুড়ে সোনিয়া খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূ ও তার মেয়ে নেহা মনির (১১) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় স্কুলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর তিনি সাব্বির নামে একজনকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি মেয়ে নেহা মনিকে নিয়ে কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের শিকড় স্কুলপাড়া গ্রামে বাবা আবদুল মান্নানের বাড়িতে বসবাস করতেন। স্বামী মাঝে মাঝে যাতায়াত করতেন। শিশু নেহা পার্শ্ববর্তী দুপচাঁচিয়ার একটি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
শুক্রবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সোনিয়ার মা ও ভাবী উঠানে চুলায় রান্নার কাজ করছিলেন। ভাই সেলিম জমিতে ছিলেন। এ সময় সোনিয়ার ঘরে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে কাহালু ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা ওই ঘর থেকে সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করেন। দগ্ধ অবস্থায় মেয়ে নেহা মনিকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটি মারা যায়।
তদন্ত ও অভিযোগ
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ঘরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেরোসিনের গন্ধ পাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, সোনিয়া আত্মহত্যার জন্য কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছিলেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ সময় তার মেয়ে দগ্ধ হয়েছিল।
কাহালু থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘরে কেরোসিন তেলের গন্ধ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন এবং আগুনে তার মেয়ে পুড়ে মারা গেছে। এরপরও প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।



