বরগুনায় হামের প্রকোপ: তিন শিশুর মৃত্যুতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ
ডেঙ্গুর প্রকোপ কাটতে না কাটতেই বরগুনায় আবারও শুরু হয়েছে হাম আতঙ্ক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তিন শিশু মারা গেছে। তারা হলেন বরগুনা সদর উপজেলার আফিফা ও জুরাইয়া এবং পাথরঘাটার হাসান। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১ বছরের নিচে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি ও চিকিৎসা পরিস্থিতি
বরগুনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় হাম রোগীদের জন্য বর্তমানে ৩৭টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদরে ৩০টি এবং অন্যান্য পাঁচ উপজেলায় ৭টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বরগুনা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে এ জেলায় হামের প্রকোপ দেখা দেয় এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আসে। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।
রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও শনাক্তকরণ
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম জানান, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০ জন। হাসপাতালে ভর্তি ১৪৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের শরীরে হাম ও ১ জনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে এবং ৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সিভিল সার্জনের বক্তব্য ও সতর্কতা
এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, বরগুনার কোনো হাসপাতালে হামের রোগী মারা যায়নি। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তিনজন মারা গেছে। কিন্তু এ রোগী আমাদের বরগুনার। প্রত্যেকের বয়স ১ বছরের নিচে।
তিনি বলেন, শিশুর উচ্চ জ্বর, সর্দি বা কাশি হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক চিকিৎসা ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমরা বরগুনা সদরের হাম রোগীদের জন্য বর্তমানে ৪০ হাজার ডোজ হাতে রেখেছি।
এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



