মুন্সিগঞ্জে পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে ৮ বছরের শিশু গুরুতর আহত
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণে ৮ বছরের শিশু মুস্তাকিম আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিশুটিকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের বিস্তারিত ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু মুস্তাকিম বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সিকান্দির দক্ষিণ বেহেরকান্দি মসজিদ থেকে আলুর খেতের ওপর দিয়ে বাড়ি ফিরছিল। সে ওই জমিতে লাল স্কচটেপে প্যাঁচানো একটি বল দেখতে পায় এবং খেলনা ভেবে ককটেলটি কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে মুস্তাকিম বাড়ির লাকড়ির ঘরের চালের ওপর ককটেলটি রাখতে যায়। তখন টিনের চালের সঙ্গে লেগে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে তার ডান হাতের কবজি পর্যন্ত ছিন্নভিন্ন ও পায়ে জখম হয়। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এস এম ফেরদৌস হাসান জানান, বিস্ফোরণে শিশুর ডান হাতের সব কটি আঙুল প্রায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ডান পায়েও আঘাত আছে। বিকেল চারটার দিকে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মুস্তাকিমের বাবা আল আমিন বলেন, ‘মুস্তাকিম খেলাধুলা করছিল, বাড়ির সবাই কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুরে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে আমরা ছুটে গিয়ে দেখি, মুস্তাকিম মাটিতে পড়ে আছে। তার অবস্থা ভালো নয়।’
এদিকে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যান মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম। তিনি সন্ধ্যায় বলেন, বিস্ফোরিত ককটেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আলুর জমিতে পড়ে ছিল। গত সংসদ নির্বাচনের কয়েক দিন আগে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন কিছু ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুর কুড়িয়ে পাওয়া ককটেলটি সেদিনের হতে পারে।
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা
ওসি মমিনুল ইসলাম আরও বলেন, মোল্লাকান্দি এলাকায় যাঁরা প্রায় সময় সংঘর্ষে জড়ান, তাঁরা ককটেল জমিতে, মাটির নিচে, বিভিন্ন ঝোপঝাড়ে ও পরিত্যক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ঘটনা শিশু নিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিত্যক্ত বিস্ফোরক সামগ্রী আরও বিপজ্জনক ঘটনার কারণ হতে পারে।
