কুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিহত, আরেকজন আহত
কুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বাস্থ্যকর্মী নিহত

কুড়িগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিহত

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন এলাকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একজন অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের যোগাযোগ মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

কুড়িগ্রাম সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ব্যক্তির নাম আজিজুর রহমান (৬৩)। তিনি কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের অবসরপ্রাপ্ত কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান ছিলেন। বগুড়ার নন্দিগ্রাম উপজেলার মাটিহাঁস গ্রামের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী সরকারের ছেলে আজিজুর রহমান চাকরি সূত্রে কুড়িগ্রামে বসবাস করতেন।

আহত ব্যক্তির নাম আব্দুল মতিন (৫৮)। তার বাড়ি জেলা শহরের প্রাণিসম্পদ অফিস সংলগ্ন মুন্সিপাড়া গ্রামে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ ও পরিণতি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে আজিজুর রহমান ও আব্দুল মতিন মোটরসাইকেলে করে কুড়িগ্রাম শহর থেকে বিসিক শিল্পনগরী এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। উলিপুর থেকে কুড়িগ্রামগামী একটি অ্যাম্বুলেন্স তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা উভয় ব্যক্তি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক আজিজুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আব্দুল মতিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলটি স্থানীয় লোকজন আটক রেখেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।