কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করছেন? ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ!
কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করছেন? ডেকে আনছেন বিপদ!

শৈশব থেকেই গোসলের পর বা কান চুলকালে কটন বাড ব্যবহার করা আমাদের অনেকেরই নিয়মিত অভ্যাস। ১৯২০-এর দশক থেকে বাজারে আসা এই কটন বাডকে কানের ময়লা বা খইল পরিষ্কারের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম মনে করা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই আপাত নিরীহ অভ্যাসটি আপনার কানের জন্য বয়ে আনতে পারে মারাত্মক ক্ষতি।

বিশেষজ্ঞের সতর্কবার্তা

নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ওটোল্যারিঙ্গোলজি (নাক, কান, গলা রোগ) বিভাগের অধ্যাপক ড. আনা এইচ কিম সম্প্রতি ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, কান পরিষ্কারের জন্য বাজারে যেসব আধুনিক গ্যাজেট বা টুলস পাওয়া যায়, সেগুলোর কোনোটিই আসলে নিরাপদ নয়।

কান পরিষ্কারে কটন বাডের মূল ঝুঁকিগুলো

  • খইল আরও ভেতরে চলে যাওয়া (পিস্তন ইফেক্ট): কটন বাড ব্যবহার করলে কানের খইল বাইরে আসার পরিবর্তে সিরিঞ্জের পিস্তনের মতো আরও ভেতরের দিকে চলে যায়। এর ফলে খইল কানের পর্দার গায়ে আটকে গিয়ে শ্রবণশক্তি সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
  • ইনফেকশন ও ক্ষত তৈরি: বাড দিয়ে কানের ভেতরে অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে ভেতরের নরম চামড়া ছিলে যেতে পারে। এতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ সহজ হয়, যা পরবর্তীতে তীব্র ইনফেকশনের রূপ নেয়।
  • কানের পর্দা ফেটে যাওয়া: অসাবধানতাবশত কটন বাড কানের অনেক গভীরে চলে গেলে কানের পর্দা ফুটো হয়ে যেতে পারে। এমনকি কানের ভেতরের সূক্ষ্ম হাড়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষ স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে।

কান প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে পরিষ্কার করে

বিশেষজ্ঞদের মতে, কানের খইল বা ‘ইয়ারওয়াক্স’ কোনো ক্ষতিকর ময়লা নয়। এটি কানের ভেতরের ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং বাইরে থেকে ধূলিকণা বা জীবাণু ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। কানের কেবল বাইরের এক-তৃতীয়াংশ অংশে এই খইল তৈরি হয়। ড. কিম জানান, আমাদের কান প্রাকৃতিকভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখতে সক্ষম। আমরা যখন খাবার চিবিয়ে খাই বা কথা বলি, তখন আমাদের চোয়ালের নড়াচড়ার কারণে কানের ভেতরের খইল আপনাআপনি বাইরের দিকে চলে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপদে কান পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম

চিকিৎসকদের মতে, কানের ভেতরে কোনো কিছুই প্রবেশ করানো উচিত নয়। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কটন বাডের মাথা যদি নিজে দেখতে না পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে সেটি বেশি গভীরে চলে গেছে। কান পরিষ্কার রাখার সঠিক উপায়গুলো হলো:

  1. তোয়ালে বা নরম কাপড়: গোসলের পর যখন কানের চারপাশ ভেজা থাকে, তখন একটি নরম তোয়ালে বা সুতি কাপড় আঙুলে পেঁচিয়ে কানের বাইরের অংশ ও প্রবেশপথের চারপাশ হালকাভাবে মুছে নিন।
  2. তেলের ব্যবহার: কানের বাইরের অংশে শক্ত খইল জমে থাকলে গোসলের পর কটন বাডে সামান্য বেবি অয়েল বা মিনারেল অয়েল লাগিয়ে কেবল কানের প্রবেশপথের বাইরের অংশটুকু আলতো করে পরিষ্কার করতে পারেন। তবে কোনোভাবেই বাডটি কানের গর্তের ভেতরে ঢোকানো যাবে না।
  3. ড্রপ ব্যবহার: কানের ভেতরে বেশি খইল জমে অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওভার-দ্য-কাউন্টার ইয়ার ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা খইলকে গলিয়ে বের করে দেয়।

কানের ভেতরে কোনো ধরনের চামচজাতীয় টুলস বা ‘ইয়ার ক্যান্ডেল’ ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কানের ভেতরে ব্যথা, চুলকানি বা কানে কম শোনার মতো সমস্যা হলে নিজে নিজে বাড ব্যবহার না করে অনতিবিলম্বে একজন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।