চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) কার্যকাল এখনো শেষ হয়নি। তবে এরই মধ্যে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব। সম্প্রতি তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তার অধ্যয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে চাকসুর পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার ছাত্রত্বের সমাপ্তি ঘটেছে।
স্নাতকোত্তরে অসাধারণ ফলাফল
জানা গেছে, ইতিহাস বিভাগ থেকে ৩.৯৬ সিজিপিএ পেয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন তিনি। স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে সম্মিলিতভাবে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি কোনো ভাষা কোর্স, এমফিল বা পিএইচডি কর্মসূচিতে ভর্তি নন।
ছাত্রত্ব শেষের আইনগত ব্যাখ্যা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফল প্রকাশের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্বের সমাপ্তি ঘটে। সে হিসেবে সাঈদ বিন হাবিব বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন।
চাকসুর গঠনতন্ত্রের ৪ নম্বর ধারায় কার্যকালের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের মেয়াদ শপথ গ্রহণের পর থেকে এক বছর। মেয়াদ শেষে কার্যনির্বাহী কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। গত বছরের ১৫ অক্টোবর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৩ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেন। সেই হিসেবে বর্তমান সপ্তম কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় সাড়ে তিন মাস বাকি।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপট
এদিকে কিছুদিন আগেই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের। নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকায় তারা সিনেট অধিবেশনেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চাকসুর জিএসকে এখনো এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি।
সাঈদ বিন হাবিবের বক্তব্য
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "চাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার দিন পর্যন্ত কেউ নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকলে এবং নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে কার্যকাল শেষ হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। আমার স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে আমি নিয়মিত শিক্ষার্থী নই। তবে এ কারণে চাকসুর দায়িত্ব পালনে কোনো অসুবিধা নেই।"
উপাচার্যের মতামত
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, "গঠনতন্ত্রে শপথ গ্রহণের পর থেকে এক বছরের মেয়াদের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেই হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা দেখি না।"



