শিক্ষামন্ত্রী মিলনের আহ্বান: বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ জরুরি
শিক্ষামন্ত্রী মিলন: বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা জরুরি

শিক্ষামন্ত্রীর জোরালো বার্তা: বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ অপরিহার্য

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুর একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নুর হোসেন হল মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণা করতে হবে।

শিক্ষক নিয়োগে দুর্বলতা কাটাতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নজর

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘যদি শিক্ষক নিয়োগে আমাদের কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে, এমপিরা যদি সকলে মিলে রাজনীতি করেন তাহলে শিক্ষার পরিবেশ আসবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগে যদি কোনো দুর্বলতা হয়ে থাকে আমি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখব। শিক্ষক নিয়োগে মেধাবী কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। শিক্ষকদের মেধাবী হতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’ মিলন জোর দিয়ে বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, তাই তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখার আহ্বান

পৃথিবীতে বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বে জনসংখ্যা কমছে। সেখানে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেড়েই চলছে। আমরা অবশ্যই এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আশীর্বাদ হিসেবে নেব।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, উন্নত বিশ্বে যেটার অভাব রয়েছে সেটা আমাদের দেশে পর্যাপ্ত রয়েছে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর অভাব নেই। মিলন বলেন, সঠিকভাবে বিশ্বায়নের যুগে শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর এক নাম্বার মানবসম্পদে ভরপুর দেশ। সে জন্য সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও সরকারি বরাদ্দ

শিক্ষামন্ত্রী জানান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও আরও হল নির্মাণসহ অনেক কিছু প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের পক্ষে হঠাৎ করে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ সম্ভব নয়। তারপরও ব্যবস্থা করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সমাপ্ত করতে গরিব দেশের সরকারের খরচ হচ্ছে ৮ লাখ টাকা এবং পরিবারের খরচ হচ্ছে ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করতে ১৩ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।

বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়ালেখার বর্ণনা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রজেক্ট বেজ পড়ালেখা হচ্ছে, সেখানে আমরা মান্ধাতার আমলের পদ্ধতিতে পড়ালেখা করছি।’ সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন প্রয়োজনে জিডিপির পাঁচ শতাংশ শিক্ষা খাতে দেওয়া হবে।

হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে লেখাপড়া, গবেষণাসহ যা প্রয়োজন তা করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভৌত কাঠামোর উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছে আমরাও তার বিপক্ষে নই, তবে একই সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’

ফেসবুকে বক্তব্য বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কতা

আ ন ম এহছানুল হক জানান, ফেসবুকে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমার কাজ আমাকে করতেই হবে। আমাকে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনতেই হবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের দিকে জাতি তাকিয়ে আছে। অভিভাবকেরা তাকিয়ে আছেন। সুতরাং যত দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে প্রতিটি মুহূর্তকে লেখাপড়ার কাজে লাগাতে হবে। কারণ, এই মুহূর্তটিই তোমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে, আগামীর বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য এম এনামউল্যার সভাপতিত্বে নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, সাদিক রিয়াজ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সহ–উপাচার্য অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় ট্রেজারার জাহাঙ্গীর কবির, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর মহিদুল ইসলাম ও ফারুক হাসান।