শিক্ষামন্ত্রী মিলন: নকলের পুনর্জন্ম ধারণা ছিল না, ডিজিটাল নকল ও শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহাছানুল হক মিলন বলেছেন, নকলের চল্লিশা-দাফন-কাফন সব করেছিলাম, কিন্তু এটা আবার পুনর্জন্ম নেবে এমন ধারণা তার ছিল না। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা অঞ্চলের আওতাধীন কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
নকল প্রতিরোধের অতীত ও বর্তমান চিত্র
অতীতে নকল প্রতিরোধের ঘটনা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগের দিনে মানুষ সিনসিয়ার ছিল। শিক্ষকদের সামনে নকল করবে, এই সাহস তো কারও ছিল না। আইনের প্রয়োজন হবে কেন? তবুও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই আইনটা করেছিলেন বলেই, তিনি ২০০২ থেকে ২০০৬-এ এসে নকলের চল্লিশা খাওয়া, দাফন কাফন করা সব করেছিলেন।
তিনি বলেন, হয়েছিল তখন? তাহলে এই নকল আবার পুনর্জন্ম নেবে, এটা কিন্তু আমার ধারণায় ছিল না। তিনি আরও বলেন, এখন নকলের মডেল পরিবর্তন হয়েছে। সেই জন্যই বলছি মানসম্মত শিক্ষার প্রয়োজন হয়েছে।
ডিজিটাল নকল ও শিক্ষকদের ভূমিকা
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, এখন নকল হচ্ছে ডিজিটাল, নকলের সহযোগিতা করছে শিক্ষকরা। কীভাবে? খাতায় উত্তর লিখে দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার মান প্রসঙ্গে এখন কোয়ালিটি ইমপ্রুভ কি আমার ছাত্ররা করবে না শিক্ষকরা করবে? কে করবে? কীভাবে সম্ভব?
তিনি বলেন, ছাত্ররা তো শিখতে আসছে। যারা কিছু জানে না। দে আর ফারম্যান। দে আর ব্র্যান্ড নিউ। তারা কাদামাটি। এই নকলটা হয় কেন? ছাত্রদের জন্য না। আমাদের জন্য, সরকারের জন্য, শিক্ষকদের জন্য। শিক্ষকরা ঠিক হয়ে গেলে তারা যদি সঠিকভাবে ক্লাসে পড়ান তাহলেই তো ছাত্ররা শিখবে নাকি?
শিক্ষার্থী প্রস্তুতি ও কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গ
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা কিন্তু রেডি। ক্লাসরুমে যায়। টিচার যদি ঠিকমতো না পড়ায় অভিভাবকরা চিন্তা করে প্রাইভেট টিউটোরিং দিতে হবে। প্রথমে চিন্তা করে একজন শিক্ষক দিলেই হবে। পরে দেখে না একজনে হয় না দুইজন শিক্ষক দাও, তিনজন শিক্ষক দাও।
তিনি প্রশ্ন করেন, তারপর যখন হয় না তখন কোচিং সেন্টারে পাঠাও নাকি? কোচিং সেন্টার আর স্কুলের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে? কেউ বলতে পারে? তারা বেঞ্চ দিয়ে ক্লাসরুম বানিয়ে কোচিং সেন্টারে তারা লেখাপড়া করায়।
শিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে নকল প্রতিরোধ, শিক্ষার মান উন্নয়ন, এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দিকে ইঙ্গিত করে।



