পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতির প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের চেষ্টায় মোবাইল ফোনসহ এক পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে, যা শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
অসদুপায় অবলম্বনকারী ওই পরীক্ষার্থীর নাম মো. ইমন, যার রোল নম্বর ১৫২৩৪৯। তিনি রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টা থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর একপর্যায়ে হলের দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। পরে তাকে তল্লাশি করে তার কাছে একটি মোবাইল ফোনসেট পাওয়া যায়, যা তাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কক্ষে নিয়ে আসার দিকে পরিচালিত করে।
পরীক্ষার্থীর স্বীকারোক্তি ও প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি মোবাইল ফোন নিয়ে আসছিলাম। এটা আমার অপরাধ হয়েছে। আমি ছবি তুলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে উত্তর মিলাতে চেয়েছি; কিন্তু আমি তা করতে পারিনি। আমি স্বীকার করছি যে আমি অপরাধ করেছি, তবে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি আর জীবনে এমন কাজ করব না।” তার এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় প্রযুক্তির অপব্যবহার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুজ্জামান খান বলেন, “পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। পরে তাকে আটক করে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং তাকে পরীক্ষায় বহিষ্কার করা হয়েছে।” এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তির সংঘাত
এই ঘটনা শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল টুলসের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের একটি নেতিবাচক দিক ফুটিয়ে তোলে। পাবিপ্রবির মতো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার চর্চা বাড়ানোও এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, পাবিপ্রবির এই ঘটনা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষার নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে।



