দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াডে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
দিনাজপুরে 'বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড-২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে সজাগ থাকার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ শনিবার সকালে দিনাজপুর জিলা স্কুলে এই বিশেষ আয়োজনটি সম্পন্ন হয়েছে, যা মার্চ মাস জুড়ে দেশব্যাপী 'মুক্তিযুদ্ধের আলোয় জাগ্রত তারুণ্য' স্লোগানে চলমান একটি উদ্যোগের অংশ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য
এই অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দিনাজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সফিকুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, 'কারও হুংকারে বা দয়ায় আমরা স্বাধীনতা পাইনি। লাখো মানুষের জীবনদান, নিপীড়ন, অত্যাচার, বঞ্চনা শেষে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশ পেয়েছি; অধিকার আদায় করতে পেরেছি; পতাকা এবং মানচিত্র পেয়েছি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আবেগ এবং অস্তিত্বের নাম। এর সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে এবং এই ইতিহাসকে সমুন্নত রাখতে আগামী প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।'
শিক্ষক ও গবেষকদের মূল্যবান মতামত
দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান সাজু সময়োপযোগী এই কর্মসূচি নেওয়ায় প্রথম আলো বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, 'মুক্তিযুদ্ধের ওপরই আমাদের দেশের ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে। এর সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। এ জন্য পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আমাদের অনেক বই পড়তে হবে। এখনো মুক্তিযুদ্ধারা জীবিত আছেন, তাঁদের কাছে গিয়ে সেই ভয়াল দিনের কথা শুনতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করতে হবে।' অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দিনাজপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কাসেম, বিরল উপজেলার বোর্ডহাট কলেজের শিক্ষক ও স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বিধান দত্ত, প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম এবং বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক শুভ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সভাপতি শবনম মুস্তারিন।
অংশগ্রহণ ও বিজয়ীদের তালিকা
অনুষ্ঠানের আগে সকাল সাড়ে ১০টায় দিনাজপুর জিলা স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৩০ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে পাঁচজন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেন অতিথিরা। বিজয়ীদের তালিকা নিম্নরূপ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্লাবন কুমার রায়
- সেন্ট ফিলিপস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের আশিকুর রহমান
- মিনহাজ আহম্মেদ সিদ্দিকী
- বিরল সরকারি কলেজের হিমেল চক্রবর্তী
- দিনাজপুর সরকারি কলেজের আলিফ হাসান
এই আয়োজনটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রাণবন্ত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুরূপ উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে পারে।



