পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা (যা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হয়) এর ফলাফল প্রকাশের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থীর এই ফলাফলের খসড়া প্রস্তুত করার পর বর্তমানে অধিকতর যাচাই-বাছাই চলছে। ফল প্রকাশের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলাফলে কোনো করণিক ভুল যাতে না থাকে, সেজন্য তারা এখন আরও গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করছেন। তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ না জানালেও খুব শিগগিরই ফল প্রকাশ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
ফলাফল সংগ্রহের উপায়
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফলাফল প্রস্তুত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে খুব সহজেই ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে রেজাল্ট দেখার সবচেয়ে সহজ ও অফিসিয়াল মাধ্যম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল।
পরীক্ষার সময়সূচি
এর আগে সারা দেশে একযোগে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। পার্বত্য তিন জেলা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
বৃত্তি সংখ্যা ও বিতরণ
এ বছর সারা দেশে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় মোট সাড়ে ছয় লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। মেধাতালিকা ও কোটার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ পাবেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই কোটায় ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী বৃত্তির সুযোগ পাবে। বাকি ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় থেকে। মেধাতালিকায় ছাত্র ও ছাত্রী সমান হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচিত করা হবে।
আর্থিক সুবিধা
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থীকে মাসিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রেডে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা দেওয়া হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী তিন বছর এই আর্থিক সুবিধা পাবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে বৃত্তির এই অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনা বর্তমানে সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।



