আদর্শ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বাছাইয়ে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
আদর্শ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বাছাইয়ে ৭টি বৈশিষ্ট্য

সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে স্কুলে ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পূর্ববর্তী বছরগুলোর ফলাফল জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে একটি শিশু প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা যে পরিবেশে সময় কাটায়, সেই পরিবেশ তার মনন গড়ে তুলছে কি না, সেটা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিভিন্ন গবেষণালব্ধ তথ্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা মানদণ্ড অনুযায়ী আদর্শ ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বাছাইয়ে ক্ষেত্রে বেশ কিছু উপায় রয়েছে। নির্বাচিত ৭টি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানা যাক।

১. শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত

শিক্ষাবিষয়ক গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, একটি আদর্শ ক্লাসরুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত হওয়া উচিত ১:২০ বা সর্বোচ্চ ১:২৫। অর্থাৎ প্রতি ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করলে তা সঠিক শিক্ষাদান নিশ্চিত করে। যদি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দিকে আলাদা নজর দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে সেই শিক্ষা কেবল ‘লেকচার’ হয়েই থেকে যায়, ‘লার্নিং’ হয় না।

২. কারিকুলামের প্রয়োগ ও রিসোর্স

স্কুলটি কেবল কেমব্রিজ বা এডেক্সেলের বই পড়াচ্ছে, নাকি সেই কারিকুলামের মূল দর্শন অনুসরণ করছে, সেটাও পরখ করা জরুরি। ভালো স্কুলে লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি নিয়মিত ব্যবহারের জায়গা থাকতে হবে। বইয়ের তথ্যকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে মেলাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কতটুকু রিসোর্স বরাদ্দ রাখছে, তা যাচাই করতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৩. কো-কারিকুলার এবং লাইফ স্কিলস

একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংগীত বা ভলান্টিয়ারিংয়ের বিকল্প নেই। হার্ভার্ড বা এমআইটির মতো শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন শুধু ভালো ফল বা জিপিএ-৫–ই দেখে না, গুরুত্ব দেয় শিক্ষার্থীর ‘লিডারশিপ কোয়ালিটি’কেও। ভালো স্কুল কখনোই এক্সট্রা কারিকুলারকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বা ‘সময় নষ্ট’ হিসেবে মনে করবে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৪. শিক্ষকদের মান ও প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক মানের স্কুলগুলো তাদের শিক্ষকদের নিয়মিত ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট’ বা পিডি সেশনের ব্যবস্থা করে। শিক্ষকেরা আধুনিক টিচিং মেথডোলজি (যেমন ব্লেন্ডেড লার্নিং) বা ‘মিশ্র শিখন’ সম্পর্কে সচেতন কি না, তা জানা জরুরি। অর্থাৎ ক্লাসরুমে সরাসরি উপস্থিত থেকে শেখার পাশাপাশি ঘরে বসেও ইন্টারনেট, ল্যাপটপ বা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শিক্ষা গ্রহণ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা অবগত কি না।

৫. মানসিক স্বাস্থ্য ও ইনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট

গবেষণা বলছে, বুলিং বা মানসিক চাপ শিশুর মেধা বিকাশে বড় বাধা। একজন প্রপার কাউন্সেলর থাকা, শিশুটি সেখানে মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করা ভালো স্কুলের বৈশিষ্ট্য। মনে রাখা দরকার, একটি ইনক্লুসিভ স্কুল ভর্তির ব্যাপারে সব ধরনের শিশুকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখে।

৬. টেকনোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন

ভবিষ্যৎ শিক্ষাপদ্ধতি যেহেতু পুরোটাই প্রযুক্তিনির্ভর হতে চলেছে, তাই স্কুলে আইটি ল্যাব বা স্মার্ট বোর্ড থাকাটাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে প্রবলেম সলভিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে শিখছে কি না এবং সাইবার সেফটি সম্পর্কে সচেতন কি না—আধুনিক ও মানসম্মত স্কুলগুলো এসব বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

৭. কমিউনিকেশন ও ফিডব্যাক সিস্টেম

স্কুল কি শুধু সন্তানের ‘রেজাল্ট কার্ড’ পাঠানোর প্রয়োজনেই অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে? না। ভালো স্কুল নিয়মিত ‘প্যারেন্ট-টিচার মিটিং’ এবং গঠনমূলক ফিডব্যাক আদান-প্রদানে বিশ্বাসী। অভিভাবক হিসেবে আপনার মতামত সেখানে কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, সেটিও একটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানদণ্ডের অংশ।