হজের মাস জিলকদ শুরু হয়েছে। জিলহজের ৯ তারিখ ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন মুসলিম উম্মাহ। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে হতে পারে হজ তথা ইয়াওমে আরাফাহ। বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ১৮ এপ্রিল। নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল হজযাত্রার জন্য আগেভাগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। নিচে হজযাত্রীদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
১. এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ ও ফ্লাইট নিশ্চিতকরণ
প্রথমেই নিজের নির্ধারিত হজ এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের তারিখ নিশ্চিত করুন। আপনি আগে মক্কা না মদিনায় যাচ্ছেন, সেটি জেনে নিন। এই তথ্য অনুযায়ী ইহরাম, পোশাক ও সময় ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করলে যাত্রা সহজ হয়।
২. নিবন্ধন তথ্য যাচাই ও খরচ ব্যবস্থাপনা
সরকারি ওয়েবসাইট hajj.gov.bd ব্যবহার করে নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন। ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ফ্লাইট সূচি ও আবাসনের তথ্য মিলিয়ে নিন। বিমানভাড়া, মক্কা-মদিনার বাসাভাড়া, খাবার ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে সচেতন থাকুন। সৌদি আরবে খরচের জন্য প্রয়োজনীয় রিয়াল সংগ্রহ বা আন্তর্জাতিক ব্যবহারের উপযোগী ব্যাংক এটিএম কার্ড সঙ্গে রাখুন।
৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা
হজে যাওয়ার আগে পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং নির্ধারিত টিকা গ্রহণ করুন। দেশের প্রায় ৮০টি টিকাদান কেন্দ্র থেকে এই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। দেরি না করে আগেই সম্পন্ন করুন।
৪. প্রয়োজনীয় মালামাল গুছিয়ে রাখা
‘রুট টু মক্কা’ সুবিধায় প্রধান লাগেজ সরাসরি মক্কা বা মদিনার আবাসনে পৌঁছে যাবে। তাই হাতব্যাগে অন্তত দুই-তিন সেট কাপড়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি জিনিস রাখুন। মোবাইল ব্যবহারকারীরা চার্জার, সিম কার্ড, হজ প্যাকেজ ও রোমিং সংক্রান্ত বিষয় জেনে নিন।
৫. হজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ
হজের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে হজের প্রতিটি ধাপ, দোয়া, করণীয় ও নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে জেনে রাখলে ইবাদতের পাশাপাশি ভ্রমণ অর্থবহ হয়।
৬. হজের ধরন নির্ধারণ
তামাত্তু, ইফরাদ ও কিরান—এই তিন ধরনের হজ রয়েছে। অধিকাংশ হজযাত্রী তামাত্তু হজ পালন করেন। নিজের জন্য উপযুক্ত ধরন নির্ধারণ করুন।
৭. ধৈর্য ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা
পুরো হজযাত্রায় ধৈর্য ধারণ করা জরুরি। কুরবানি বা দমে শোকরের জন্য প্রায় ৭২০ সৌদি রিয়াল খরচ হতে পারে, এটি মাথায় রাখুন।
৮. হজের মূল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা
হজের মূল কার্যক্রম পাঁচ দিনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা, পুনরায় মিনা, কাবা শরিফে তাওয়াফ ও জামারাতে পাথর নিক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত। ভিড়ে পথ হারানোর ঝুঁকি থাকে, তাই মিনা ও আরাফাতের মানচিত্র সংগ্রহ করুন। গলায় তাঁবুর কার্ড ঝুলিয়ে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করুন।
৯. মদিনায় নুসুক অ্যাপ ব্যবহার
মদিনায় অবস্থানের সময় নুসুক অ্যাপ ব্যবহার করে রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি নিন। আগেভাগে স্লট বুক করলে ভিড় এড়ানো সহজ হয়।
১০. জমজম সংগ্রহ ও লাগেজ প্রস্তুতি
জমজমের পানি সংগ্রহ ও দেশে ফেরার সময় লাগেজ প্রস্তুতের ক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সের নিয়ম মেনে চলুন। চাইলে পুরো হজযাত্রার অভিজ্ঞতা লিখে রাখুন, যা ভবিষ্যতে স্মৃতিচারণে সহায়ক হবে।



