চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের গ্রাফিতি: ‘গুপ্ত’ লিখে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস
চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ‘গুপ্ত’ গ্রাফিতি, ছাত্রশিবিরের প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের গ্রাফিতি: ‘গুপ্ত’ লিখে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর এবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শাখা ছাত্রদল ‘গুপ্ত’ লিখে গ্রাফিতি অঙ্কন করে ক্যাম্পাসে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় শাখা ছাত্রশিবির ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্যরাতে গ্রাফিতি অঙ্কনের ঘটনা

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকা এবং সোহরাওয়ার্দী হল প্রাঙ্গণের মোড়ে এসব গ্রাফিতি আঁকা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, সোহরাওয়ার্দী হল মোড়ে ‘বিতাড়িত গুপ্ত থেকে পানাহ চাই’ এবং লাল কালিতে লেখা ‘গুপ্ত’ শব্দের ওপর সাদা কালি দিয়ে কেটে দেওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রধান সড়কের সামনে ‘আলবদর ও গুপ্ত প্রবেশ নিষেধ’ লেখা গ্রাফিতিও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।

ছাত্রদলের বক্তব্য: গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে দুটি জায়গায় এটি লিখেছি। আমাদের এই প্রতিবাদ চলমান থাকবে। বিগত সময়ে যারা গুপ্ত ছিল, তারা এখন ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে নিজেদের প্রকাশ করছে। তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুপ্ত রাজনীতি বন্ধ হোক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা যৌক্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। যদি কেউ গুপ্ত রাজনীতি করে এবং হামলা চালায়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল তা শক্তভাবে প্রতিহত করবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রশিবিরের প্রতিক্রিয়া: সৌহার্দ্য ও সংযমের আহ্বান

অন্যদিকে এ বিষয়ে চাকসুর ভিপি ও শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ চাই। কেউ উস্কানিমূলক লেখালেখি করলে আমরা সংযম রাখার চেষ্টা করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক সংগঠন যেন শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক সুস্থ রাজনীতি করে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ ‘গুপ্ত’ বলা কি মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গুপ্ত’ শব্দটি যদি কাউকে ট্যাগিং করে বলা হয়, তাহলে আমার মনে হয় এটি অবশ্যই জুলুম করা হয়। গত ১৭ বছর ছাত্রশিবির মাঠে-ময়দানে, রাজপথেই ছিল এটি সবাই জানে।’

ক্যাম্পাসে উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

এই ঘটনাটি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটেছে, যা ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ছাত্রদলের গ্রাফিতি অঙ্কন এবং ছাত্রশিবিরের প্রতিক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যে শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক রাজনীতির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলমান রয়েছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে উভয় সংগঠনই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকনির্দেশনা দিতে পারে।