মাদ্রাসায় শিশুকে পিটিয়ে জখম, কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ
মাদ্রাসায় শিশুকে পিটিয়ে জখম, কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ

মাদ্রাসায় শিশুকে পিটিয়ে জখম, কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ

রংপুর নগরীর বারো আউলিয়া কওমি মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম এবং পরে তাকে সারাদিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম সোহাইবুর রহমান (১০)। সে মাদ্রাসার ছাত্র। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সকালে।

শিশুটির পরিবার জানায়, হুজুরের দেওয়া পড়া মুখস্থ করে বলতে না পারায় মাদ্রাসার শিক্ষক নাজমুল হুদা তাকে বেত দিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটি প্রাণভয়ে ক্ষমা চাইলে হুজুরের মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এতে তার পিঠ, হাত, পা-সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন তৈরি হয় এবং অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়।

শুধু মারধরই নয়, শাস্তি হিসেবে শিশুটিকে সারাদিন খাবার না দিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে মাগরিবের নামাজের সময় কক্ষের দরজা খোলা দেখে সে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তার কাছে কোনো টাকা পয়সা না থাকায় বিভিন্ন যানবাহনে নিজের নির্যাতনের কথা বলে অনুরোধ করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে বদরগঞ্জের নিজ বাড়িতে পৌঁছায় সে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরে পরিবারের সদস্যরা অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন। কর্তব্যরত চিকিৎসক শয়ন মিয়া জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরও ক্ষতচিহ্নগুলো স্পষ্ট ছিল। শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি সে মানসিকভাবেও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তার এখন মানসিক চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নির্যাতনের শিকার সোহাইবুর রহমান জানায়, পড়া দিতে না পারায় হুজুর তাকে বেত দিয়ে মারতে থাকেন। অনেক কাকুতি-মিনতি করলেও তিনি থামেননি। পরে তাকে আরও শাস্তি হিসেবে একটি রুমে সারাদিন খেতে না দিয়ে আটকে রাখেন হুজুর। নামাজের সময় সুযোগ পেয়ে সে পালিয়ে বাড়িতে চলে আসে। সে আরও জানায়, ওই হুজুর প্রায় সময় ছাত্রদের দিয়ে শরীর টিপে নেয় এবং তিনি খুবই বদ মেজাজি ও খারাপ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুক্তভোগীর বাবা নাজিমুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার বড় হুজুর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলেছেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসার মোহতামিম (প্রধান) নাজমুল হক জানান, ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুটির খোঁজ নিতে তারা তার বাড়ি ও হাসপাতালে গিয়েছেন এবং তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল হুদার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনের অপরপ্রান্তে তার বড়ভাই পরিচয় নিয়ে কথা বললেও তিনি নাম বলেননি।