নারায়ণগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় বড় ধরনের প্রশ্নপত্র বিভ্রাট
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় গুরুতর ভুলের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বাংলা প্রথমপত্র সৃজনশীল পরীক্ষায় ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়, যাতে ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
পরীক্ষার এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল
পরীক্ষা শুরুর সময় স্বাভাবিকভাবে সবকিছু চললেও প্রায় এক ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বিষয়টি প্রথমবারের মতো পরীক্ষার্থীদের নজরে আসে। কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার ঘটনা জানামাত্র সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভুল সংশোধন করে সঠিক প্রশ্নপত্রে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের বিক্ষোভ ও দাবি
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জমায়েত হন। তারা কেন্দ্র সচিবের পদত্যাগের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন। অভিভাবক রাবেয়া বসরি বলেন, "কেন্দ্র সচিবের গাফিলতির কারণে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। এ ঘটনার দায় নিয়ে তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।"
কেন্দ্রের বিস্তারিত তথ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী
ওই কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে মোট ৭৬০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যারা সোনারগাঁ উপজেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের:
- সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়
- দবরউদ্দিন ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়
- মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
- নাসিম মেমোরিয়াল ল্যাবরেটরি স্কুল
এই ৭৬০ জনের মধ্যে ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীকে ভুলভাবে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। সিনহা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানান, "বহুনির্বাচনি পরীক্ষা শেষে আমরা সৃজনশীল পরীক্ষায় অংশ নিই। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আমাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেন। পরীক্ষার প্রথম দিন হওয়ায় শুরুতে বিষয়টি আমাদের নজরেই আসেনি।"
শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়মান রহমান এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "এমন ভুল যদি বারবার ঘটে, তাহলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও কঠোর সতর্কতা ও নজরদারি প্রয়োজন।"
কেন্দ্র সচিব মো. আবদুল মতিন সরকার তার ব্যাখ্যায় বলেন, "সিলেবাসের সাল দৃষ্টিগোচর না হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া প্রশ্নের অতিরিক্ত আরও দুটি প্রশ্নের প্যাকেট বেশি আসায় বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। ফলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে আমি এই বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করব।"
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আশ্বাস
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত ঘটনাটি নজরে আসামাত্রই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, "পুরাতন সিলেবাসে পরীক্ষার বিষয়টি আমাদের গোচরে আসার পরই আমরা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, পরীক্ষার্থীদের তেমন কোনো সমস্যা হবে না। তাদের এ বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।"
এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই এমন বিভ্রাট শিক্ষা ব্যবস্থায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি করছেন, ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো অবহেলা বা ভুল না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।



