বেনাপোল বন্দরে চাল আমদানি নগণ্য, বর্ধিত মেয়াদ শেষ
চাল আমদানির জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বর্ধিত মেয়াদ ২০ এপ্রিল তারিখে শেষ হয়েছে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে এই সময়ে আমদানি কার্যক্রম অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে ছিল বলে জানা গেছে।
আমদানি পরিসংখ্যানে চিত্র
বর্ধিত ৪০ দিনের সময়কালে মাত্র তিনটি কার্যদিবসে বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ১,২৫৯ মেট্রিক টন মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানান, এই চালের চালানগুলো ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করেছে।
মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ
সরকার চাল আমদানির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মূলত দুটি কারণে। প্রথমত, পূর্ববর্তী সময়ে চাল আমদানি আশানুরূপ হয়নি। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় বাজারে চালের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
প্রাথমিকভাবে ২৩২ জন আমদানিকারককে ১০ মার্চের মধ্যে মোট ২,০০,০০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে আমদানি সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকার মেয়াদ ৪০ দিন বাড়িয়ে ১১ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করে।
আমদানিকারকের বক্তব্য
যশোরের নওয়াপাড়াভিত্তিক লিটন এন্টারপ্রাইজের মালিক লিটন হোসেন জানান, বর্ধিত মেয়াদে তার প্রতিষ্ঠান তিন দিনে ভারত থেকে প্রায় ১,২৫৯ মেট্রিক টন মোটা চাল আমদানি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেনাপোল বন্দরে প্রতি কিলোগ্রাম চাল আমদানি করতে খরচ হয়েছে ৫০ টাকা।
লিটন হোসেন আরও বলেন, "এই চাল খোলা বাজারে বিক্রি হলে প্রতি কিলোগ্রামের দাম প্রায় ৫১ টাকা হতে পারে।"
বাজার প্রভাব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত স্বল্প পরিমাণ চাল আমদানি স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। ফলে বাজারে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে যাতে বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানো যায়।
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে চাল আমদানি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



