নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান—কারও মধ্যে ভেদাভেদ করেন না। সবার আগে মানুষ—এই পরিচয়েই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, 'আপনারা মানুষ হিসেবে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমিও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং সংখ্যালঘু বা গুরু—এসব শব্দ অন্তত আমার নির্বাচনী এলাকায় আর চলবে না।'
হাজং ভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ
গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার উত্তর লেংগুরা বেলতলি হাজংপাড়া দুর্গামন্দির প্রাঙ্গনে হাজং সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, দল-মত-জাতি-ধর্ম-বর্ণ কোনো বিষয় নয়; সমাজ, এলাকা ও দেশ নিয়ে যিনি ইতিবাচক চিন্তা করেন, তাঁদের নিয়েই একসঙ্গে কাজ করা হবে। কারণ, এই দেশ সবার। মুক্তিযুদ্ধে সবার রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে।
নিজের নির্বাচনী এলাকায় হাজং সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষের বসবাস উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, তাদের ভাষায় নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। সম্প্রদায়টির মানুষ নিজের ভাষায় কথা কম বলায় ধীরে ধীরে তা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভাষাটি টিকিয়ে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কলমাকান্দার রংছাতি, লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়নের হাজং–অধ্যুষিত এলাকার তিনটি বড় মন্দিরে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে, যাতে শিশুদের হাজং ভাষা শেখানো যায়।
নদীভাঙন রোধে পরিকল্পনা
ডেপুটি স্পিকার বলেন, 'আমি চাই না, এই ভাষা হারিয়ে যাক। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ভাষা ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ শুরু করছি। কারণ, ভাষা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রাণ, সেটি হারিয়ে গেলে একটি জাতিসত্তার প্রাণভোমরা হারিয়ে যায়।'
গণেশ্বরী নদীর বেলতলি কালীমন্দির থেকে লেংগুরা বাজার পর্যন্ত নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, নদীভাঙন রোধে পুরো এলাকায় সিসি ব্লক বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের কাজও শুরু করা হবে। এই কাজ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে হাজং সম্প্রদায়ের মানুষদের দিয়েই করানো হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
ওই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম, লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান খান পাঠানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও হাজং সম্প্রদায়ের সদস্যরা।



