ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
ইবিতে খালেদা জিয়ার ব্যানার ছেঁড়া, তদন্ত কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনা: উত্তেজনা ও তদন্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পতাকা সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার একটি ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে বর্তমানে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত চলছে। গত ১৫ এপ্রিল সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় এই ঘটনা সংঘটিত হয়।

ঘটনার পটভূমি ও প্রতিবাদ

বিক্ষোভের সময় কিছু শিক্ষার্থী কর্তৃক প্রশাসন ভবনের সামনে ঝুলানো ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। জিয়া পরিষদ এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়া, শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ফেসবুকে নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

ভিডিও বিশ্লেষণ ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

ঘটনার একটি ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, শাখা ছাত্রদল কর্মী তানভীর আহমেদ সতেজ প্রথমে একটি ব্যানার ছিঁড়েন। তার সঙ্গে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের আফ্রিদি হাসানও ব্যানার ছেঁড়েন। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আরও কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন যে, বিক্ষোভকালে একজন কর্মচারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনার কারণে তারা ব্যানার ছিঁড়েছেন। তারা বলেন, "বাইরে থেকে কর্মচারীকে দেখা যাচ্ছিল না, তাই উত্তেজিত হয়ে ব্যানার ছিঁড়েছি। কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষমা

ছাত্রদল কর্মী তানভীর আহমেদ সতেজ এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেছেন এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই বলে জানিয়েছেন। শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেছেন, "এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"

তদন্ত কমিটি গঠন

ঘটনা তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস শাহীদ মিয়া বলেছেন, "আমরা যাচাই-বাছাই করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেব।" এই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সতর্কতা ও সমাধানের দিকে নজর রাখছেন।