মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দোশরপাড়া গ্রামে অবস্থিত পদ্যমহেম ধাম নামে পরিচিত একটি লালন মাজারে মঙ্গলবার বিকেলে এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রথম আলোর ফিচার ও নকশা বিভাগের প্রধান ফটো সাংবাদিক ও মাজারের সভাপতি কবির হোসেন। তার ভাই তকবির বাউলও আহত হয়েছেন।
হামলার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে। হামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে লাটাবদী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করে। স্থানীয়রা জানান, ইছামতি নদীর তীরে বালুচর গ্রামে অবস্থিত এই মাজারটি প্রায় ২১ বছর আগে কবির হোসেন প্রতিষ্ঠা করেন। সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ থেকেই এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে একটি দল মাজার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কবির হোসেনের ওপর আক্রমণ করে, তাকে গুরুতর আহত করে। এ সময় তকবির বাউলও আহত হন। স্থানীয় লালন ভক্তরা আহতদের উদ্ধার করে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আহত সাংবাদিকের অভিযোগ
হাসপাতালে কথা বলার সময় কবির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে তাকে মাজার থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আজ বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে মাজারে এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। একটি দা দিয়ে মাথায় আঘাত করায় আমি গুরুতর আহত হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, এর আগে তিনি মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহর কাছে মাজার নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকায় হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।
অভিযুক্তের পক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মাদবরের ভাই মহসিন মাদবর ভিন্ন গল্প বলেন। তিনি দাবি করেন, কবির হোসেন তাদের আত্মীয় হলেও মাজার প্রতিষ্ঠার নাম করে তাদের পরিবার ও আশপাশের বাসিন্দাদের জমি দখল করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “তিনি মাজারে একটি গেট বসিয়ে গ্রামের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।” তার দাবি, কবিরের পক্ষ থেকেই প্রথমে হামলা চালানো হয়।
পুলিশের বক্তব্য
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারের জমি নিয়ে কবির হোসেন ও জাহাঙ্গীর মাদবরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তিনি বলেন, “একটি তর্কাতর্কির পর কবির হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”



