মাত্র ৬৩ পরীক্ষার্থীর জন্য মাগুরা আদর্শ কলেজ দেড় মাস বন্ধ, শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ক্ষোভ
৬৩ পরীক্ষার্থীর জন্য মাগুরা আদর্শ কলেজ দেড় মাস বন্ধ

মাত্র ৬৩ পরীক্ষার্থীর সুবিধায় মাগুরা আদর্শ কলেজ দেড় মাস বন্ধ

মাগুরা জেলার ১৮০০ শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান মাগুরা আদর্শ কলেজের সম্মান শ্রেণিসহ সব বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম দেড় মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মাত্র ৬৩ জন দাখিল পরীক্ষার্থীর সুবিধার জন্য, যা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কলেজটি আগামী ৪ জুন পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পেছনের কারণ

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এ বছর জেলার চারটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৭০৪ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মাগুরা সদর উপজেলায় বরাবরই সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা ও বেরইল দারুল হুদা ফাজিল মাদ্রাসায় কেন্দ্র স্থাপন করা হতো। তবে এবার সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার ৬৩ শিক্ষার্থীকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে দূরের বেরইল মাদ্রাসায় যেতে হবে। এই দুর্ভোগ কমাতে শহরের মাগুরা আদর্শ কলেজ বন্ধ করে সেখানে কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাগুরা আদর্শ কলেজ কেন্দ্রের সচিব ও সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, এই কেন্দ্রে মোট ৩৭৫ জন পরীক্ষা দিচ্ছে, যার মধ্যে তার মাদ্রাসার ৬৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তিনি বলেন, "বিকল্প কেন্দ্র স্থাপনের জন্য শহরের বন্ধ থাকা দুটি স্কুলসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের নাম জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছিল। তার মধ্য থেকে আদর্শ কলেজকে নির্বাচন করা হয়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

মাগুরা আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রিমা বিশ্বাস বলেন, "এমনিতেই কলেজে ক্লাস কম হয়ে থাকে। তার ওপর স্কুল লেভেলের দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্র কলেজে দিয়ে ক্লাস বন্ধ করা খুবই হাস্যকর।" অভিভাবক ফসিয়ার রহমানের মতে, "এসএসসি এবং দাখিল পরীক্ষার জন্য অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেখানে কেন্দ্র স্থাপন না করে চালু থাকা কলেজ বন্ধ করে মাদ্রাসা কেন্দ্র করা খুবই অযৌক্তিক।"

অভিভাবক ওলিয়ার রহমান আরও যোগ করেন, "প্রতি বছর কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি হওয়ার জন্য অনেকে দৌড়ঝাঁপ করেন; কিন্তু কলেজ বন্ধ থাকল না খোলা থাকল সে বিষয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই।" কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেনও এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন বলে জানান।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল কাদের জানান, "এ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় ওই কলেজের শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। সেই সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।" তবে মাগুরা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ কাবিয়ার রহমান বলেন, "জেলা প্রশাসক আমাদের কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ক্লাস বন্ধ রেখে মাদ্রাসা কেন্দ্র স্থাপনে শিক্ষক-অভিভাবকদের আপত্তি থাকলেও জেলা প্রশাসক এটিই বেটার অপশন মনে করেছেন।"

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে এই বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধের মাধ্যমে স্বল্প সংখ্যক পরীক্ষার্থীর সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।