নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা আগে-পরে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষার খাতা বিতরণের সময় সহপাঠী মাসুম (১৯) নিয়ম ভঙ্গ করে আগে খাতা নেওয়াকে কেন্দ্র করে আরেক শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান সৈকত (২০) প্রতিবাদ করেন। এতে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুম নাহিদকে চড়-থাপ্পড় মারলে নাহিদও পালটা আঘাত করে। পরে রাজিন সালেহসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসে তাদের থামিয়ে দেন।
হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
পরীক্ষা শেষে রাজিন সালেহ (১৮) কেন্দ্র থেকে বের হলে মাসুম ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত চার থেকে ৫ জন তার পথরোধ করে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি পেছন থেকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার বাম হাতের বাহুতেসহ শরীরের অন্যান্যস্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে রাজিন দৌড়ে পাশের একটি কোচিং সেন্টারে আশ্রয় নেন। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
চিকিৎসা ও অভিযোগ
পরে সহপাঠীদের সহযোগিতায় রাজিনকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. আল মুনসুর রাসেল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মাসুমকে প্রধান অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত আরও চার থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



