অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় সামুদ্রিক পাখিতে প্রথমবার শনাক্ত প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু
অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় পাখিতে প্রথম বার্ড ফ্লু শনাক্ত

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো স্থানীয় একটি সামুদ্রিক পাখির দেহে প্রাণঘাতী এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির উপকূলে গত মাসে ভাইরাসটি পৌঁছানোর পর এটিকে সংক্রমণ বিস্তারের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রথম স্থানীয় পাখিতে সংক্রমণ

শুক্রবার (১০ জুলাই) দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানান, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর রোব-এ পাওয়া একটি গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির নমুনা পরীক্ষায় এইচ৫এন১ সংক্রমণ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা। এটি অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সামুদ্রিক পাখিতে এইচ৫এন১ সংক্রমণের প্রথম নিশ্চিত ঘটনা। এর আগে দেশটিতে শনাক্ত হওয়া সব সংক্রমণই ছিল পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির মধ্যে।

সংক্রমণ সংখ্যা বৃদ্ধি

এ ঘটনায় দেশটিতে নিশ্চিত এইচ৫এন১ সংক্রমণের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২-তে। শুক্রবার দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় আরও দুটি এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় একটি নতুন সংক্রমণের ঘটনাও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রীর বক্তব্য

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেন, নতুন এই সংক্রমণ ‘উদ্বেগজনক’, তবে এটি অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ব্যাপক হারে পাখির মৃত্যুর কোনো প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি গৃহপালিত হাঁস-মুরগি বা বৃহত্তর কৃষি খাতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখছেন কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার এই স্থানীয় সামুদ্রিক পাখিটি সংক্রমিত হলো।’

সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস

কলিন্সের ভাষ্য, যে সামুদ্রিক পাখিটির দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, সেটি এমন উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করে যেখানে আগে এইচ৫এন১-এ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়া পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখিরাও অবস্থান করেছিল। তাই সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লুর ইতিহাস

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে প্রথমবারের মতো এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ছিল বিশ্বের শেষ মহাদেশ, যেখানে মূল ভূখণ্ডে ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দূরের সাব-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলের হার্ড দ্বীপে ভাইরাসটির অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল। সূত্র: রয়টার্স