বাংলাদেশের নতুন শিক্ষানীতি চূড়ান্ত: প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন
নতুন শিক্ষানীতি চূড়ান্ত: প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন শিক্ষানীতি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নীতিটি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষার সংস্কারে গুরুত্ব দিয়েছে।

নীতির মূল বৈশিষ্ট্য

নতুন শিক্ষানীতিতে প্রাথমিক শিক্ষায় ১০০ শতাংশ ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ নীতি বাস্তবায়নে ২০২৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হবে।’

শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ

নীতিতে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নতুন পদ্ধতি চালুর কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘শিক্ষকদের মান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব নয়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে প্রতিটি জেলায় একটি করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৫০০টির বেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা আমাদের অগ্রাধিকার।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি

নতুন নীতিতে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নৈমিত্তিক মূল্যায়নের পাশাপাশি বার্ষিক পরীক্ষার গুরুত্ব বজায় থাকবে। উচ্চমাধ্যমিকে সৃজনশীল প্রশ্নের পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা যাচাইয়ে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে।’

বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ

নীতি বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষা খাতে বাজেট বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ২.৫ শতাংশ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও চাইব।’