সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর ব্যতিক্রমী ক্লাস: শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে ৩০ মিনিট পাঠদান শোনা
এমপির ব্যতিক্রমী ক্লাস: শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে পাঠদান শোনা

কুমিল্লায় সংসদ সদস্যের ব্যতিক্রমী শ্রেণিকক্ষ অভিজ্ঞতা

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দিদার মডেল হাইস্কুলে একটি অনন্য ঘটনার সাক্ষী হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তখন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা বিষয়ের পাঠদান চলছিল। প্রচলিত প্রথা ভেঙে তিনি কোনো বিশেষ আসন না নিয়ে শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে সরাসরি শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে গিয়ে বসেন।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অভিনব উদ্যোগ

শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের পর সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী শিক্ষক শামীমা আক্তারকে অনুরোধ করেন পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে। এমনকি ক্লাস চলাকালে যেন বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করে বিঘ্ন না ঘটায়, সেই নির্দেশনাও দেন তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তিনি মনোযোগী ছাত্রের মতোই শিক্ষার্থীদের বেঞ্চে বসে পাঠদান শোনেন। ক্লাস চলাকালে তিনি এক ছাত্রীর কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘কুলি-মজুর’ কবিতাটির আবৃত্তিও শুনেছেন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষাকে আনন্দময় করার আহ্বান

ক্লাসের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য। তিনি নিয়মিত স্কুলে আসা এবং নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্যতিক্রমী এই অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাকে শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দময় করে তুলতে হবে। আমি তাদের সঙ্গে মিশে ক্লাস করেছি, যেন তারা বুঝতে পারে পড়াশোনা কোনো ভয়ের বিষয় নয়, বরং উপভোগের। শিক্ষা যদি আনন্দদায়ক হয়, তবে শিক্ষার্থীরা আর স্কুল ফাঁকি দেবে না। এ ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও দক্ষ শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া

দিদার মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অর্চনা দেবনাথ এই ঘটনাকে অনুপ্রেরণামূলক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের এভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাওয়া আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উৎসাহ বাড়বে, তেমনি শিক্ষকদের দায়িত্ববোধও আরও দৃঢ় হবে। টিকাদান কর্মসূচি শেষে এমপি মহোদয় আকস্মিকভাবে ক্লাসে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন অংশগ্রহণমূলক উপস্থিতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলবে বলে মনে করি।’

এই ঘটনাটি কুমিল্লা জেলার শিক্ষাঙ্গণে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে কি না তা জানতে চাইলে শিক্ষকেরা নিশ্চিত করেন যে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরই তিনি এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেন।